ধানের বাজার নিম্নমুখী কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ

ধানের বাজার নিম্নমুখী কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ,নড়াইলে বোরোর বাম্পার ফলনে চাষিদের মুখে হাসি ফুটলেও আশার ফসল ঘরে উঠতে না উঠতেই ধানের দাম কমে যাওয়ায় হাসির বদলে তাদের মুখে মলিনতা ভর করেছে। ভরা মৌসুমে ধানের নিম্নমুখী বাজারে এবার উৎপাদন খরচ না ওঠা নিয়ে চাষিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ।শুক্রবার (১৯ মে) নড়াইল তুলারামপুর, মাইজপাড়া, মিঠাপুরসহ বিভিন্ন হাটে সরেজমিনে দেখা গেছে, নতুন ধানে হাট সয়লাব। চাষিরা তাদের উৎপাদিত ধান হাটে নিয়ে আসেন। বেলা বাড়তে না বাড়তেই ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগমে হাট পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

 

ধানের বাজার নিম্নমুখী কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ

 

 

ধানের বাজার নিম্নমুখী কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ

জেলার পাইকারি ধানের মোকামগুলোতে মোটা জাতের মধ্যে হাইব্রিড হিরাধান, ব্রি ধান-৭৪, মোটা-চিকনের মাঝামাঝি জাতের মধ্যে সুবর্ণলতা, ছক্কা, এসএল ৮ এইচ এবং সরু জাতের ব্রি ধান-৫০ ও ৮৯, তেজগোল্ড ধানের সরবরাহ ব্যাপক আকারে বেড়েছে। মোটা ধান প্রতি মণ ১ হাজার ২০ টাকা, মাঝারি আকারের ধান মানভেদে ১ হাজার ১১০ টাকা থেকে ১ হাজার ১৮০ টাকা এবং সরু জাতের ধান ১ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
এক সপ্তাহের ব্যবধানে সব ধরনের ধান প্রতি মণ ৪০ টাকা থেকে ৫০ টাকা কমেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এদিকে নতুন ধান উঠতে না উঠতেই বাজার দর কমতে থাকায় দিশেহারা চাষিরাহাটে ধান বিক্রি করতে আসা এক চাষি সময় সংবাদকে জানান, এবার বোরো আবাদ মৌসুমের প্রথম থেকেই শ্রম, ডিজেল সার, কীটনাশকসহ সব কৃষি উপকরণের চড়া দামের জোগান দিতে হিমশিম খেতে হয়েছে। এ জন্য ধারদেনা করতে অনেকেই বিভিন্ন অর্থলগ্নিকারী সমিতি ও মহাজনের দ্বারস্থ হতে বাধ্য
হোন।
google news
গুগোল নিউজে আমাদের ফলো করুন

 

আরেকজন কৃষক বলেন, সার-কীটনাশকের যে দাম, এতে আমাদের কিছুতেই পোষাচ্ছে না। আমাদের প্রতিমণ ধানের উৎপাদন খরচ ১ হাজার ৫০০ টাকা। যেখানে আমরা ১ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি। কাজেই যে দামে ধান বিক্রি হচ্ছে, তাতে কৃষকের বেঁচে থাকা মুশকিল।বর্তমান দামে চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন উল্লেখ করে নড়াইল সদরের তুলারামপুর হাটের ধান ব্যবসায়ী মো. জিল্লুর রহমান বিশ্বাস বলেন, চাষিদের লাভবান হতে হলে মোটা ধান ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে ১
হাজার ৩০০ টাকা এবং চিকন ধান অন্তত ১ হাজার ৪০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা প্রয়োজন। তবে মিল মালিকদের মধ্যে বর্তমানে ধান কেনায় অনাগ্রহ দেখা যাচ্ছে।যার কারণে হাট থেকে কেনা ধান বিক্রি নিয়ে ফড়িয়াদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর জন্যই মূলত ধানের স্থানীয় বাজার নিম্নমুখী।এমন পরিস্থিতিতে উৎপাদন খরচের সঙ্গে মিল রেখে বাজার দর নিশ্চিত করতে পারলে কৃষকরা লাভবান হবেন বলে মনে করেন নড়াইল সদর উপজেলার কৃষি
ধানের বাজার নিম্নমুখী কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ
কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জমান। তিনি বলেন, বর্তমানে শ্রমের চড়া দাম উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির জন্য অনেকটাই দায়ী। এ বাস্তবতায় শ্রম খরচ কমিয়ে আনতে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ অত্যন্ত ফলপ্রসূ।এ ক্ষেত্রে চাষিদের উদ্বুদ্ধ করতে কৃষি বিভাগ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি বছর জেলায় ৫০ হাজার ২৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ৩ লাখ ৩৩ হাজার ২৭৬ টন ধান।
আরও পড়ুন:

Leave a Comment