আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় নড়াইল জেলার বিখ্যাত খাবার।
নড়াইল জেলার বিখ্যাত খাবার:-
খেজুর গুড় ও খেজুর রসের জন্য এই নড়াইল জেলা পুরো বাংলাদেশে সুপরিচিত। এই জেলায় বিভিন্ন সুস্বাদু মিষ্টির উৎপত্তি ও প্রসার ঘটেছে। তাছাড়া নড়াইল জেলার সাধারণ মানুষের রন্ধন প্রনালী খুবই জনপ্রিয় ও সুস্বাদু।
১. পেড়ো সন্দেশ
পেড়ো সন্দেশ দুধের ক্ষীর দিয়ে প্যারা সন্দেশ বানানো হয়। বর্তমানে দেশের অন্যান্য জেলায় প্যারা সন্দেশ তৈরি করা হলেও সর্প্রবথমে নওগাঁ জেলায় তৈরি করা শুরু হয়। বর্তমানে জামালপুরের সরিষাবাড়িতে এই নামে মিষ্টি তৈরী হয়। তবে সেটার সাথে স্বাদে, আকৃতিতে, প্রস্তুত প্রণালীতে নওগাঁর প্যারা সন্দেশের কিছু অমিল আছে।
প্রথম দিকে শুধু পূজা মণ্ডপের দেব-দেবীর উপাসনার জন্যই এই সন্দেশ তৈরি করা হতো। পরবর্তীতে এই সন্দেশ শুধু দেব-দেবীর আরাধনার মধ্যে সীমাবন্ধ থাকেনি। সুস্বাদু এবং পুষ্টিগুনের কারণে সন্দেশটি এখন বিখ্যাত মিষ্টান্ন হিশেবে পরিচিত। বর্তমানে দেশের গণ্ডি পেড়িয়ে প্যারা সন্দেশের সুখ্যাতি বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে।
২. খেজুরের রস
খেজুরের রস বা খেজুর রস হল খেজুর গাছ থেকে সংগ্রহকৃত রস। সাধারণত মাটির হাড়ি দিয়ে খেজুরের রস সংগ্রহ করা হয়। তবে বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে মাটির বদলে প্লাস্টিক দিয়ে সংগ্রহ করা হয়। খেজুরের রস দিয়ে ফিরনি, পায়েস এবং খেজুরের রস থেকে উৎপন্ন গুড় দিয়ে ভাঁপা পিঠা এবং গাঢ় রস দিয়ে তৈরি করা হয় মুড়ি, চিড়া, খই ও চিতই পিঠাসহ হরেক রকম পিঠাপুলি। খেজুরের রস পান করলে শরীরের দুর্বলতা দূর হয়। এতে উচ্চ প্রাকৃতিক চিনি এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক উপাদান রয়েছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে খেজুরের রস পান করলে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে হয়।
৩. খেজুরের গুড়
খেজুর গুড় এক ধরনের খাবার যা খেজুরের রস থেকে তৈরি করা হয়। বাংলা অগ্রহায়ণ মাস থেকে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত খেজুরের রস সংগ্রহ করা হয়। খেজুরের উত্তাপে রসকে ঘন ও শক্ত পাটালিগুড়ে পরিণত করা হয়। ধরন অনুযায়ী খেজুরের গুড়কে ঝোলা গুড়, দানাগুড়, পাটালি, চিটাগুড় ইত্যাদি ভাগে ভাগে ভাগ করা যায়।
খেজুর রস এবং গুড় খুবই সুস্বাদু। শীতকালে খেজুরের রস ও গুড় দিয়ে পায়েস, বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন পিঠা, তালের পিঠা, খেজুর গুড়ের জিলাপি ইত্যাদি তৈরি হয়ে থাকে। স্বাদ আর মানভেদে খেজুরের গুড় পাটালি, নলেন গুড়, হাজারী গুড় নামে পরিচিত।
৪. নলেন গুড়ের সন্দেশ
নড়াইলের লোহাগড়ার ‘নলেন গুড়ের খাঁটি সন্দেশে’র জুড়ি নেই।এ সন্দেশের চাহিদা শুধু দেশে নয় বিদেশেও রয়েছে।
৫. ছানার জিলাপি
ছানার জিলাপি বাংলার মিষ্টির মধ্যে অন্যতম। ছানার বিভিন্ন মিষ্টির মধ্যে এটি অন্যতম কুলীন মিষ্টান্ন। ছানার জিলাপির উৎপত্তি গ্ৰামবাংলায় হয়েছে বলে গণ্য করা হয়। সাধারনত রমজান মাসে এই জিলাপি একটি বিখ্যাত ইফতারি হয়ে ওঠে।
৬. ফুঁড়ান
৭. ক্ষীর
ক্ষীর বা মেওয়া বাংলার নিজস্ব মিষ্টি। ক্ষীর শুধু মিষ্টিই নয় এটি অন্যান্য মিষ্টির সহযোগী এবং প্রধান উপকরণ হিসাবে ব্যবহার করা হয়। উত্তরভারতে ক্ষীর নামটি পায়েস হিসাবে ব্যবহার করলেও বাংলায় ক্ষীর সম্পূর্ণ ভিন্ন স্বাদের ও ভিন্ন মিষ্টি।
৮. ক্ষীর সন্দেশ
৯. ভাজা পিঠা
১০. দুধ চিতই
শীতের পিঠার তালিকায় একেবারে শুরুতেই থাকে চিতই পিঠার নাম। খেজুর রস কিংবা গুড়ের সঙ্গে এই পিঠার স্বাদ অনন্য হয়ে ওঠে। চিতই পিঠা খাওয়া যায় নানা উপায়ে তৈরি করে। একেক চিতইয়ের আবার একেক নাম। সবগুলোই খেতে সুস্বাদু। তার মধ্যে অন্যতম হলো দুধ চিতই।
আরও পড়ূনঃ

