নড়াইলে বেড়েছে ডায়রিয়া রোগ,নড়াইলে গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদহে উদ্বেগজনক হারে ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। সদর হাসপাতালে বিপুল পরিমাণ রোগীর চাপ সামাল দিতে কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছেচিকিৎসকরা বলছেন, পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি পান না করার পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণের ফলে পরিস্থিতি ক্রমে অবনতি হচ্ছে। সংকট মোকাবেলায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিতের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে পানি ব্যবহারে অত্যন্ত সতর্ক হবার পরামর্শ তাদের।

নড়াইলে বেড়েছে ডায়রিয়া রোগ
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, তীব্র গরমের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অন্তত এক সপ্তাহ আগে থেকে ডায়রিয়া পরিস্থিতি ক্রমে খারাপের দিকে যাচ্ছে। পানি ও খাদ্যবাহিত এ রোগে শিশু-বৃদ্ধসহ নানা বয়সের মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। বয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রচণ্ড গরমে মাঠ থেকে পাকা ধান ঘরে তুলতে গিয়ে গরম লেগে অধিক হারে এ রোগে আক্রান্ত হতে দেখা যাচ্ছে। পরে তা পরিবারের অন্য সদস্যদের মাঝে সংক্রমিত হচ্ছে।নড়াইল সদর হাসপাতালে প্রতিদিন নানা বয়সের গড়ে ৩০-৩৫ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত
রোগী চিকিৎসা নিতে আসছে। শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় অধিকাংশ রোগীকে ভর্তি করতে হচ্ছে। হাসপাতালে নগণ্য সংখ্যক বেডের বিপরীতে বিপুল সংখ্যক রোগীর চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ হিমশিম খাচ্ছেন। বিপুল সংখ্যক রোগী ও তাদের স্বজনদের চাপে হাসপাতালের পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা দুরূহ হয়ে পড়ছে।সংক্রমণ ওয়ার্ডের ইনচার্জ সিনিয়র স্টাফ নার্স ফিরোজা খাতুন জানান, সংক্রমণ ওয়ার্ডে মাত্র ৬টি শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন গড়ে ৯০ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত

রোগী ভর্তি থাকছে। স্থান সংকুলান না হওয়ায় তিন-চারজনকে একই বেডে রাখার পাশাপাশি বাধ্য হয়ে বারান্দায় বা ওয়ার্ডের মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। রোগীর ব্যাপক চাপ থাকলেও হাসপাতালে স্যালাইনসহ আনুষঙ্গিক চিকিৎসা সরঞ্জামের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় যথাযথ সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।নড়াইল আধুনিক সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. আব্দুল গফ্ফার বলেন, ‘হাসপাতালে জনবল সংকটসহ বিদ্যমান নানা সংকট থাকলেও সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে ডাইরিয়া
পরিস্থিতি সামাল দেয়া হচ্ছে।’তিনি আরও বলেন ‘এ গরমে সুস্থ থাকতে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি পান করা জরুরি। একই সঙ্গে দৈনন্দিন অপরিহার্য প্রয়োজনে ব্যবহার্য পানির বিশুদ্ধতার ব্যাপারেও সতর্ক থাকতে হবে। ডাইরিয়া প্রতিরোধে যেকোনো ধরনের অস্বাস্থ্যকর খাদ্য পরিহার করতে হবে।’

আরও পড়ুন :

১ thought on “নড়াইলে বেড়েছে ডায়রিয়া রোগ”