Site icon নড়াইল জিলাইভ | truth alone triumphs

নড়াইল জেলার নদ-নদী

নড়াইল জেলার নদ-নদী

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় নড়াইল জেলার নদ-নদী।

নড়াইল জেলার নদ-নদী:-

নড়াইল জেলায় অনেকগুলো নদী রয়েছে। নদীগুলো হচ্ছে আঠারোবাঁকি নদী, নবগঙ্গা নদী, চিত্রা নদী, মধুমতি নদী ও ভৈরব নদ। রয়েছে প্রচুর বিল ও বাওড়। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ইছামতির বিল ও চাচুরি বিল।

আঠারোবাঁকি নদী

আঠারোবাঁকি নদী বাংলাদেশের খুলনা বিভাগের খুলনা ও নড়াইল জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি নদী। আঠারোটি বাঁকে নদীটি প্রবাহিত হয় বলে নদীটির নাম হয়েছে আঠারোবাঁকি নদী। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা “পাউবো” কর্তৃক আঠারোবাঁকি নদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী নং ১।

আঠারোবাঁকি নদীটি নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার পাহাড়ভাঙ্গা ইউনিয়নে প্রবহমান মধুমতি-নদী থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে। অতপর এই নদীর জলধারা বাগেরহাট ও খুলনা জেলার সীমানা পৃথক করে মোল্লাহাট উপজেলার গাংনী, তেরখাদা উপজেলার ছাগলাদহ ইউনিয়ন-এর নিকট কাটাখালী নদী মিলিত স্রোত রূপসা উপজেলার ঘাটভোগ ও নৈহাটি ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার ওয়ার্ড নং ২১-এ রূপসা নদীতে পতিত হয়েছে।

 

চিত্রা নদী – নড়াইল জেলা

 

নবগঙ্গা নদী

নবগঙ্গা নদী বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মাগুরা এবং নড়াইল জেলার একটি নদী। নদীটির দৈর্ঘ্য ২১৪ কিলোমিটার,গড় প্রস্থ ৮৫ মিটার এবং নদীটির প্রকৃতি সর্পিলাকার। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা “পাউবো” কর্তৃক নবগঙ্গা নদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী নং ৪৫। এটি মাথাভাঙ্গা নদীর শাখা নদী। মাথাভাঙা থেকে ‘গঙ্গা নবপরূপপ্রাপ্ত হয়েছে’-এই বিবেচনায় এর নামকরণ হয়েছে নবগঙ্গা।

 

গুগোল নিউজে আমাদের ফলো করুন

 

চিত্রা নদী

চিত্রা নদী বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গোপালগঞ্জ জেলার একটি নদী। নদীটির দৈর্ঘ্য ১৭২ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ৫৩ মিটার এবং প্রকৃতি সর্পিলাকার। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা “পাউবো” কর্তৃক চাটখালী নদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী নং ৩৪। নদীটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে প্রবাহিত গঙ্গা-পদ্মা সিস্টেমের একটি বিশাল উপকূলীয় নদী।

নদীটির দৈর্ঘ্য ১৭০ কি.মি.। চিত্রা নদীটি চুয়াডাঙ্গা ও দর্শনার নিম্নস্থল থেকে উৎপন্ন হয়ে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে কালিগঞ্জ, মাগুরার শালিখা ও কালিয়া উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে গাজীরহাটে নবগঙ্গা নদীর সাথে মিলেছে এবং এর মিলিত স্রোত খুলনার দৌলতপুরের কাছে ভৈরব নদীতে মিশেছে।

মধুমতি নদী

মধুমতি-নদী বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মাগুরা, ফরিদপুর, নড়াইল, গোপালগঞ্জ এবং বাগেরহাট জেলার একটি নদী। নদীটির দৈর্ঘ্য ১৭০ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ৪০৮ মিটার এবং প্রকৃতি সর্পিলাকার। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা “পাউবো” কর্তৃক মধুমতি-নদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী নং ৭৪।

মধুমতি-নদীটি মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার নাকোল ইউনিয়নে প্রবহমান গড়াই নদী হতে উৎপত্তি লাভ করেছে। অতঃপর এই নদীর জলধারা বাগেরহাট জেলার চিতলমারী উপজেলার কলাতলা ইউনিয়ন পর্যন্ত প্রবাহিত হয়ে তে নিপতিত হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রবাহ স্তিমিত হলেও বর্ষার সময় দুকূল উপচে নদী অববাহিকায় বন্যা হয়। নদীটির উজানের অংশ জোয়ার ভাটার প্রভাবে প্রভাবিত।

 

নিরিবিলি পিকনিক স্পট – নড়াইল জেলা

 

ভৈরব নদ

ভৈরব নদ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে চুয়াডাঙ্গা জেলা, ঝিনাইদহ জেলা, যশোর জেলা, নড়াইল জেলা ও খুলনা জেলা দিয়ে প্রবাহিত অন্যতম একটি নদী। নদীটির দৈর্ঘ্য ২৪২ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ৬০ মিটার এবং নদীটির প্রকৃতি সর্পিলাকার। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা “পাউবো” কর্তৃক ভৈরব নদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী নং ৬৮।

এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমাংশের একটি নদ। ভৈরব নদের তীরে খুলনা ও যশোর শহর অবস্থিত। এছাড়া এর তীরে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে কোটচাঁদপুর, চৌগাছা, দৌলতপুর, ও বাগেরহাট। হিন্দুদের কাছে নদটি পবিত্র হিসাবে সমাদৃত। নদটির নাম “ভৈরব” এর অর্থ “ভয়াবহ”, এক সময় গঙ্গা/পদ্মা নদীর মূল প্রবাহ এই নদকে প্রমত্তা রূপ দিয়েছিলো, সেই থেকেই নামটির উৎপত্তি। ভৈরব নদী চৌগাছার কাছে কপোতাক্ষ নদ থেকে উৎপত্তি লাভ করে খুলনা শহরের অদুরে রূপসা নদীতে পতিত হয়।

আরও পড়ুনঃ

Exit mobile version