পৃথক সংঘর্র্ষে নিহত ২ – নড়াইল ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গত সোমবার সংঘর্ষে দুই ব্যক্তি নিহত ও ছয়জন আহত হয়েছেন। নড়াইলের কালিয়ায় আধিপত্য বিস্তারের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন সুলতান মোল্যা (৬৫)। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের আহত হয়েছেন আরও অন্তত ছয়জন। তিনি চাঁদপুর (পূর্বপাড়া) গ্রামের মৃত আলেক মোল্যার ছেলে। তিনি পেশায় ছিলেন কৃষক। সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার চাঁদপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নড়াইল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পৃথক সংঘর্র্ষে নিহত ২
অন্যদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে গত সোমবার গভীর রাতে দুই পক্ষের সংঘর্ষের কবলে পড়ে সিদ্দিক মোল্লা নামে (৮০) এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। নাসিরনগর থানার ওসি মো. আব্দুল কাদের জানান, উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সিদ্দিক মোল্লা সোনাতলা গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা গ্রাম্য আধিপত্য বিস্তারের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। যার একটির নেতৃত্বে পুরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ড সদস্য জামাল মোল্যা ও বাসার এবং অপর গ্রুপের নেতৃত্বে সাবেক ইউপি সদস্য শরিফুল মোল্যা ও সুইট শেখ। সোমবার রাতে আনুমানিক সাড়ে ১০টার পর সাবেক ইউপি সদস্য শরিফুল মোল্যা সমর্থিত সুলতান মোল্যাকে বাড়ি ফেরার পথে একা পেয়ে বর্তমান ইউপি সদস্য জামাল মোল্যা সমর্থিত লোকজন অতর্কিত হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করেন।
খবর পেয়ে শরিফুল মোল্যা ও সুইট সমর্থিতরা লোকজন জড়ো করে পাল্টা ধাওয়া দিলে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় দুই পক্ষের আহত হন অন্তত ছয়জন আহত হন। গুরুতর আহত সুলতান মোল্যাকে নড়াইল সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। অন্য আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত বর্তমান ইউপি সদস্য জামাল মোল্যার সঙ্গে বিভিন্নভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে না পাওয়ায় কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
কালিয়া থানার ওসি মো. রাশিদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গ্রাম্য আধিপত্য বিস্তারের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। তার জের ধরে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। ঘটনার পরপরই খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশের দল হাজির হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক আছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ধরতে যৌথ বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাইফুল মিয়া বলেন, ভালোবেসে সালামের মেয়েকে বিয়ে করেন। বিয়ের কিছু দিন পর সালাম তার মেয়েকে জোর করে ডিভোর্স দেওয়ায়। তার বিরুদ্ধে থানায় ইয়াবাকারবারি হিসেবে মিথ্যা মামলা করে। এ মামলায় তাকে ধরতে আসে পুলিশ। তাদের নিয়ে আসা পুলিশের সামনে আমার দাদাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে সালাম মিয়া বলেন, সাইফুল ও তার পরিবারের লোকজন ইয়াবাকারবারি। এর প্রতিবাদ করায় মেয়ের নামে বিয়ের মিথ্যা কাবিন বানিয়ে সামাজিকভাবে আমাকে সম্মানহানি করেছে। সেই ঘটনায় থানায় মামলা করি। রাতে আসামি ধরতে গেলে পালাতে গিয়ে আহত হন সিদ্দিক মোল্লা। নৌকা দিয়ে নাসিরনগর আনার সময় নিজেরা গলা টিপে হত্যা করে তাকে। আর সেই হত্যার দায় চাপাচ্ছে আমাদের ওপর। নাসিরনগর থানার ওসি মো. আব্দুল কাদের বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে পূর্ব শত্রুতা রয়েছে। তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করা হবে।
আরও পড়ুন…
