বোরো মৌসুমকে ঘিরে চলছে শ্রম বেচাকেনা.বোরো মৌসুমকে ঘিরে জমজমাট নড়াইলে শ্রমের হাট। পাকা ধান ঘরে তুলতে শ্রমিকের অপরিহার্য প্রয়োজন হওয়ায় জমির মালিকরা শ্রম কিনতে জেলার ঐতিহ্যবাহী তুলারামপুর শ্রমেরহাটসহ অন্যান্য হাটে ভিড় করছেন। এতে ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টির ফলে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শ্রমজীবী মানুষ শ্রম বিক্রি করতে এ হাটে সমবেত হচ্ছে।মঙ্গলবার (২ মে) নড়াইলের তুলারামপুর হাটে সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই এ হাটে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শ্রম বিক্রি করতে আসা মানুষের পদচারণায় মুখর হতে থাকে। বেলা বাড়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে শ্রমিকদের পাশাপাশি নড়াইলের সীমান্ত ঘেষা জেলা থেকে শ্রম কিনতে আসা গৃহস্থদের আগমনে হাট কানায় কানায় ভরে ওঠে।
বোরো মৌসুমকে ঘিরে চলছে শ্রম বেচাকেনা
সারাবেলা চলে বেচাবিক্রি। দরদামে হলেই ক্ষণস্থায়ী মালিকের কাজে যোগ দিতে তাদের পিছু নিয়ে শ্রমিকদের যাত্রা শুরু হয় নতুন গন্তব্যে।স্থানীয়রা জানায়, কৃষি নির্ভর নড়াইল জেলায় ধান, পাট, রবিশস্য চাষাবাদ ও ফসল ঘরে তুলতে কৃষি শ্রমিকের বরাবরই ব্যাপক চাহিদা। আর এ চাহিদা স্থানীয় শ্রমিক দিয়ে পূরণ হয় না। তাই শ্রমিকের এ বিদ্যমান সঙ্কট নিরসনে নড়াইলে এ ব্যতিক্রমধর্মী শ্রম হাট বসে।এ জেলার শ্রমের হাটগুলো মধ্যে সদর উপজেলার তুলারামপুর হাট সবচেয়ে বড়। অর্ধ শতাব্দীর
পুরোনো এ শ্রমের হাটের খ্যাতির ফলে সাতক্ষীরা, যশোর ছাড়াও দূর দূরান্তের অনেক জেলা থেকে সারা বছরই এখানে শ্রমিকের সমাগম ঘটে। তবে আমন ও বোরো মৌসুমে পাকাধান কেটে ঘরে তোলার মহাযজ্ঞে শ্রমিকের ব্যাপক চাহিদা দেখা দিলে, এ সময় হাট জমজমাট থাকে। চলতি বোরো মৌসুমেও এর ব্যতিক্রম হয়নি।তুলারামপুর শ্রমের হাট বসে সপ্তাহের প্রতি শুক্র ও সোমবার। তুলারাম ছাড়াও জেলার লোহাগড়া ও এড়েন্দা শ্রমের হাটের ঐতিহ্য বহু বছরের। চলতি ধান কাটা মৌসুমের
প্রথম দিকে এসব হাটে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত শ্রম বিক্রি হলেও বর্তমানে শ্রমিকের সমাগম বৃদ্ধির ফলে তা নেমে ৬০০ থেকে ৭০০ এ দাঁড়িয়েছে। শ্রমিকের ব্যাপক সমাগমে প্রয়োজন অনুযায়ী শ্রমিক পেয়ে খুশি শ্রম ক্রেতা গৃহস্থরা। এদিকে, শ্রমের কাঙ্ক্ষিত মূল্য না পাওয়ার পাশাপাশি শ্রম কিনে নেয়া গৃহস্থদের কারও কারও বিরুদ্ধে শ্রম দিতে আসা শ্রমিকদের সঙ্গে নানা অমানবিক আচরণের অভিযোগ শ্রমজীবীদের।হাটের সুনাম ও এ জেলায় শ্রমিকের ব্যাপক চাহিদার ফলে দূর-দূরান্ত থেকে এখানে শ্রমিকের ব্যাপক সমাগম ঘটে বলে জানান তুলারামপুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মো. জিল্লুর রহমান বিশ্বাস।
আরও পড়ুন:
